দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং টিকার সংকট নিয়ে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (১২ মে) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। একই সময়ে শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় টিকার সরবরাহে ঘাটতি, বিতরণে অনিয়ম এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে টিকা না পাওয়ার অভিযোগও ব্যাপকভাবে সামনে এসেছে। এসব অভিযোগ এবং বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করতেই সরকার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, সরকার বিষয়টিকে শুধুমাত্র একটি স্বাস্থ্য সংকট হিসেবে দেখছে না; বরং এটি জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। তাই টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন, মাঠপর্যায়ে সরবরাহ এবং টিকাদান কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপ খতিয়ে দেখা হবে। কোথাও কোনো অব্যবস্থাপনা, গাফিলতি কিংবা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, তদন্ত শুধু দেশের ভেতর সীমাবদ্ধ থাকবে না। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সম্পৃক্ত করেও বিষয়টি মূল্যায়ন করা হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনিসেফসহ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে টিকা সংকটের প্রকৃত কারণ এবং সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনের বাস্তব চিত্র তুলে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গত কয়েক সপ্তাহে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেছে, সেসব এলাকাতেই সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, নির্ধারিত সময়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়েও তারা শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় টিকা পাননি।
এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্প পরিচালনা, স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্রিয় করা এবং গণসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্কুল, মাদ্রাসা ও কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, দেশে বর্তমানে টিকার মজুত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত নতুন চালান আমদানির ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কোনো ধরনের ঘাটতি যেন না থাকে, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা না পেলে শিশুদের মধ্যে দ্রুত এ রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে হাম মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তাই নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা মহামারির পর অনেক দেশে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেছিল। তার প্রভাব এখনও বিভিন্ন দেশে দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশেও যদি টিকাদান ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হয়, তবে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
এদিকে সরকারের তদন্ত ঘোষণার পর স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই তদন্তের মাধ্যমে টিকা ব্যবস্থাপনার দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত হলে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
 (800 x 200 px)_20260411_203554_0000.png)
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬
দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং টিকার সংকট নিয়ে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (১২ মে) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। একই সময়ে শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় টিকার সরবরাহে ঘাটতি, বিতরণে অনিয়ম এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে টিকা না পাওয়ার অভিযোগও ব্যাপকভাবে সামনে এসেছে। এসব অভিযোগ এবং বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করতেই সরকার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, সরকার বিষয়টিকে শুধুমাত্র একটি স্বাস্থ্য সংকট হিসেবে দেখছে না; বরং এটি জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। তাই টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন, মাঠপর্যায়ে সরবরাহ এবং টিকাদান কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপ খতিয়ে দেখা হবে। কোথাও কোনো অব্যবস্থাপনা, গাফিলতি কিংবা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, তদন্ত শুধু দেশের ভেতর সীমাবদ্ধ থাকবে না। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সম্পৃক্ত করেও বিষয়টি মূল্যায়ন করা হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনিসেফসহ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে টিকা সংকটের প্রকৃত কারণ এবং সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনের বাস্তব চিত্র তুলে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গত কয়েক সপ্তাহে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেছে, সেসব এলাকাতেই সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, নির্ধারিত সময়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়েও তারা শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় টিকা পাননি।
এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্প পরিচালনা, স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্রিয় করা এবং গণসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্কুল, মাদ্রাসা ও কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, দেশে বর্তমানে টিকার মজুত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত নতুন চালান আমদানির ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কোনো ধরনের ঘাটতি যেন না থাকে, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা না পেলে শিশুদের মধ্যে দ্রুত এ রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে হাম মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তাই নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা মহামারির পর অনেক দেশে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেছিল। তার প্রভাব এখনও বিভিন্ন দেশে দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশেও যদি টিকাদান ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হয়, তবে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
এদিকে সরকারের তদন্ত ঘোষণার পর স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই তদন্তের মাধ্যমে টিকা ব্যবস্থাপনার দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত হলে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
 (800 x 200 px)_20260411_203554_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন