মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
সিটিজি বার্তা

ছিনতাইচক্রের হাতে হত্যাকাণ্ড, গ্রেফতার একাধিক আসামি


প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

 ছিনতাইচক্রের হাতে হত্যাকাণ্ড, গ্রেফতার একাধিক আসামি

কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকরভাবে খুন হয়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী। চট্টগ্রাম থেকে কর্মস্থলে ফেরার পথে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের হাতে তিনি হত্যার শিকার হন। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একাধিক আসামিকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গত ২৪ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন বুলেট বৈরাগী। পরিবারের সঙ্গে রাত আড়াইটার দিকে তার সর্বশেষ কথা হয়। এরপর তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 

পরদিন ২৫ এপ্রিল সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় একটি হোটেলের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল, যা হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে। 

যেভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটে

র‍্যাবের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, এটি একটি পরিকল্পিত ছিনতাই। বাস থেকে নামার পর ওত পেতে থাকা একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাকে লক্ষ্যবস্তু করে।

তারা প্রথমে তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তোলে, এরপর অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মারধর ও ছিনতাই করে। পরে চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দিলে গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। 

গ্রেফতার ও উদ্ধার অভিযান

ঘটনার পরপরই র‍্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে অভিযান শুরু করে।

এখন পর্যন্ত অন্তত ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে

গ্রেফতারকৃতরা সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য

তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সিএনজি, চাপাতি, হাতুড়িসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে 

সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগেও ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে। 

আইনগত পদক্ষেপ

এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। 

পরিবার ও ব্যক্তিগত তথ্য

নিহত বুলেট বৈরাগী ৪১তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কাস্টমস কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরতছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে এবং কুমিল্লায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

তিনি স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। 

কুমিল্লার এই হত্যাকাণ্ডটি প্রথমে রহস্যজনক মনে হলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে র‍্যাবের অভিযানে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। এটি মূলত সংঘবদ্ধ ছিনতাইচক্রের পরিকল্পিত অপরাধ—যা আবারও মহাসড়ক এলাকায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সূএ: The Business Standard

আপনার মতামত লিখুন

সিটিজি বার্তা

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬


ছিনতাইচক্রের হাতে হত্যাকাণ্ড, গ্রেফতার একাধিক আসামি

প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকরভাবে খুন হয়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী। চট্টগ্রাম থেকে কর্মস্থলে ফেরার পথে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের হাতে তিনি হত্যার শিকার হন। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একাধিক আসামিকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গত ২৪ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন বুলেট বৈরাগী। পরিবারের সঙ্গে রাত আড়াইটার দিকে তার সর্বশেষ কথা হয়। এরপর তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 

পরদিন ২৫ এপ্রিল সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় একটি হোটেলের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল, যা হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে। 

যেভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটে

র‍্যাবের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, এটি একটি পরিকল্পিত ছিনতাই। বাস থেকে নামার পর ওত পেতে থাকা একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাকে লক্ষ্যবস্তু করে।

তারা প্রথমে তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তোলে, এরপর অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মারধর ও ছিনতাই করে। পরে চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দিলে গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। 

গ্রেফতার ও উদ্ধার অভিযান

ঘটনার পরপরই র‍্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে অভিযান শুরু করে।

এখন পর্যন্ত অন্তত ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে

গ্রেফতারকৃতরা সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য

তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সিএনজি, চাপাতি, হাতুড়িসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে 

সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগেও ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে। 

আইনগত পদক্ষেপ

এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। 

পরিবার ও ব্যক্তিগত তথ্য

নিহত বুলেট বৈরাগী ৪১তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কাস্টমস কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরতছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে এবং কুমিল্লায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

তিনি স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। 

কুমিল্লার এই হত্যাকাণ্ডটি প্রথমে রহস্যজনক মনে হলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে র‍্যাবের অভিযানে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। এটি মূলত সংঘবদ্ধ ছিনতাইচক্রের পরিকল্পিত অপরাধ—যা আবারও মহাসড়ক এলাকায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সূএ: The Business Standard


সিটিজি বার্তা

সম্পাদক: নুর আলম

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।