মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
সিটিজি বার্তা

কক্সবাজারের ক্যাম্প থেকে পালানোর চেষ্টা, বান্দরবানে সেনাবাহিনীর অভিযানে ২১ রোহিঙ্গা ধরা"


PRINCE DEY
PRINCE DEY
প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬

কক্সবাজারের ক্যাম্প থেকে পালানোর চেষ্টা, বান্দরবানে সেনাবাহিনীর অভিযানে ২১ রোহিঙ্গা ধরা"

বান্দরবান পার্বত্য জেলায় প্রবেশের সময় সেনাবাহিনীর একটি নিয়মিত নিরাপত্তা চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে ২১ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে সদর উপজেলার প্রবেশমুখ রেইচা চেকপোস্টে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, বিকেলে কক্সবাজার থেকে বান্দরবানমুখী যাত্রীবাহী বিভিন্ন যানবাহনে নিয়মিত তল্লাশি চালাচ্ছিল রেইচা চেকপোস্টে দায়িত্বরত সেনাসদস্যরা। এসময় সন্দেহভাজন কয়েকটি যানবাহনে তল্লাশি চালিয়ে এই ২১ জনকে শনাক্ত করা হয়। তাদের কথাবার্তা এবং আচরণে সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেন যে তারা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্প থেকে পালিয়ে বান্দরবানে প্রবেশ করার চেষ্টা করছিলেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটককৃত রোহিঙ্গারা মূলত অবৈধভাবে শ্রমিকের কাজ করার উদ্দেশ্যে বান্দরবানের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় যাচ্ছিলেন। তাদের সাথে বৈধ কোনো পরিচয়পত্র বা ক্যাম্প ত্যাগের অনুমতিপত্র ছিল না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, পাহাড়ের গহীন এলাকায় বাগান বা নির্মাণকাজে কম মজুরিতে কাজ করার সুযোগ নিতে তারা ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে আসেন।

আটককৃতদের মধ্যে পুরুষ, নারী ও শিশু রয়েছে বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তারের পর তাদের পরিচয় যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সেনা হেফাজতে রাখা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:

আটককৃতদের তালিকা তৈরি করে তাদের নিজ নিজ ক্যাম্পে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তাদের বান্দরবানে আসার পেছনে কোনো দালাল চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা।

প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের বান্দরবান সদর থানায় হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য জেলাগুলোতে বহিরাগত ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সেনাবাহিনী এবং পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে। বিশেষ করে বান্দরবানের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রতিটি প্রবেশপথে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। চেকপোস্টগুলোতে তল্লাশি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষকে কিছুটা সময় ব্যয় করতে হলেও, নিরাপত্তার স্বার্থে একে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বান্দরবান জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের জেলায় প্রবেশ বা কাজে নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। যারা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেবে বা কাজে লাগাবে, তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সিটিজি বার্তা

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬


কক্সবাজারের ক্যাম্প থেকে পালানোর চেষ্টা, বান্দরবানে সেনাবাহিনীর অভিযানে ২১ রোহিঙ্গা ধরা"

প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬

featured Image

বান্দরবান পার্বত্য জেলায় প্রবেশের সময় সেনাবাহিনীর একটি নিয়মিত নিরাপত্তা চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে ২১ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে সদর উপজেলার প্রবেশমুখ রেইচা চেকপোস্টে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, বিকেলে কক্সবাজার থেকে বান্দরবানমুখী যাত্রীবাহী বিভিন্ন যানবাহনে নিয়মিত তল্লাশি চালাচ্ছিল রেইচা চেকপোস্টে দায়িত্বরত সেনাসদস্যরা। এসময় সন্দেহভাজন কয়েকটি যানবাহনে তল্লাশি চালিয়ে এই ২১ জনকে শনাক্ত করা হয়। তাদের কথাবার্তা এবং আচরণে সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেন যে তারা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্প থেকে পালিয়ে বান্দরবানে প্রবেশ করার চেষ্টা করছিলেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটককৃত রোহিঙ্গারা মূলত অবৈধভাবে শ্রমিকের কাজ করার উদ্দেশ্যে বান্দরবানের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় যাচ্ছিলেন। তাদের সাথে বৈধ কোনো পরিচয়পত্র বা ক্যাম্প ত্যাগের অনুমতিপত্র ছিল না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, পাহাড়ের গহীন এলাকায় বাগান বা নির্মাণকাজে কম মজুরিতে কাজ করার সুযোগ নিতে তারা ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে আসেন।

আটককৃতদের মধ্যে পুরুষ, নারী ও শিশু রয়েছে বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তারের পর তাদের পরিচয় যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সেনা হেফাজতে রাখা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:

আটককৃতদের তালিকা তৈরি করে তাদের নিজ নিজ ক্যাম্পে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তাদের বান্দরবানে আসার পেছনে কোনো দালাল চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা।

প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের বান্দরবান সদর থানায় হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য জেলাগুলোতে বহিরাগত ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সেনাবাহিনী এবং পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে। বিশেষ করে বান্দরবানের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রতিটি প্রবেশপথে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। চেকপোস্টগুলোতে তল্লাশি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষকে কিছুটা সময় ব্যয় করতে হলেও, নিরাপত্তার স্বার্থে একে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বান্দরবান জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের জেলায় প্রবেশ বা কাজে নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। যারা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেবে বা কাজে লাগাবে, তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সিটিজি বার্তা

সম্পাদক: নুর আলম

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।