রাজধানীর মিরপুর ও উত্তরা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নিহতের ঘটনায় দায়ের করা পৃথক দুটি হত্যা মামলায় জামিন পেয়েছেন সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী ও নীলফামারী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর।
আজ ১০ মে ২০২৬, বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজল ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। শুনানিকালে আসাদুজ্জামান নূরের আইনজীবীরা তাঁর বর্তমান বয়স (৭৯ বছর) এবং বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে মানবিক কারণে জামিন প্রার্থনা করেন। আদালত শুনানি শেষে এই দুই মামলায় তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।তবে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন, জামিন পেলেও এখনই তাঁর কারামুক্তি ঘটছে না। কারণ, তাঁর বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং সেগুলোতে এখনও জামিন মেলেনি।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে রাজধানীর বেইলি রোডের 'নওরতন কলোনি' থেকে আসাদুজ্জামান নূরকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গ্রেফতারের পর তাঁকে মিরপুর থানায় দায়ের করা সিয়াম সরদার (১৭) হত্যা মামলায় সংশ্লিষ্টতা দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। সিয়াম ছিলেন একটি হোটেলের কর্মচারী, যিনি ১৮ জুলাই মিরপুর-১০ এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে আসাদুজ্জামান নূরের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের হতে থাকে:
১. হত্যা মামলা: জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে মিরপুর ও উত্তরার ঘটনায় বেশ কয়েকটি হত্যা মামলায় তাঁকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে নীলফামারীতেও তাঁর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে মামলা রয়েছে।
২. দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ: দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত ৩০ জুলাই ২০২৫ তারিখে তাঁর বিরুদ্ধে ৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ১৯টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৫৯ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে মামলা করে।
৩. বিগত আমলের মামলা: এছাড়া ২০১৪ সালে নীলফামারীতে বিএনপি নেতার ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা পুরনো একটি মামলাতেও তাঁকে সম্প্রতি আসামি করা হয়েছে।
আসাদুজ্জামান নূর বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। সম্প্রতি আদালত তাঁর সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং ব্যাংক হিসাব জব্দেরও নির্দেশ দিয়েছেন। আজকের হাইকোর্টের জামিন তাঁর আইনি প্রক্রিয়ায় বড় একটি পদক্ষেপ হলেও, সবগুলো মামলায় জামিন না পাওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।
 (800 x 200 px)_20260411_203554_0000.png)
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
রাজধানীর মিরপুর ও উত্তরা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নিহতের ঘটনায় দায়ের করা পৃথক দুটি হত্যা মামলায় জামিন পেয়েছেন সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী ও নীলফামারী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর।
আজ ১০ মে ২০২৬, বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজল ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। শুনানিকালে আসাদুজ্জামান নূরের আইনজীবীরা তাঁর বর্তমান বয়স (৭৯ বছর) এবং বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে মানবিক কারণে জামিন প্রার্থনা করেন। আদালত শুনানি শেষে এই দুই মামলায় তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।তবে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন, জামিন পেলেও এখনই তাঁর কারামুক্তি ঘটছে না। কারণ, তাঁর বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং সেগুলোতে এখনও জামিন মেলেনি।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে রাজধানীর বেইলি রোডের 'নওরতন কলোনি' থেকে আসাদুজ্জামান নূরকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গ্রেফতারের পর তাঁকে মিরপুর থানায় দায়ের করা সিয়াম সরদার (১৭) হত্যা মামলায় সংশ্লিষ্টতা দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। সিয়াম ছিলেন একটি হোটেলের কর্মচারী, যিনি ১৮ জুলাই মিরপুর-১০ এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে আসাদুজ্জামান নূরের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের হতে থাকে:
১. হত্যা মামলা: জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে মিরপুর ও উত্তরার ঘটনায় বেশ কয়েকটি হত্যা মামলায় তাঁকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে নীলফামারীতেও তাঁর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে মামলা রয়েছে।
২. দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ: দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত ৩০ জুলাই ২০২৫ তারিখে তাঁর বিরুদ্ধে ৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ১৯টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৫৯ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে মামলা করে।
৩. বিগত আমলের মামলা: এছাড়া ২০১৪ সালে নীলফামারীতে বিএনপি নেতার ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা পুরনো একটি মামলাতেও তাঁকে সম্প্রতি আসামি করা হয়েছে।
আসাদুজ্জামান নূর বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। সম্প্রতি আদালত তাঁর সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং ব্যাংক হিসাব জব্দেরও নির্দেশ দিয়েছেন। আজকের হাইকোর্টের জামিন তাঁর আইনি প্রক্রিয়ায় বড় একটি পদক্ষেপ হলেও, সবগুলো মামলায় জামিন না পাওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।
 (800 x 200 px)_20260411_203554_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন