মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
সিটিজি বার্তা

প্রতিবন্ধকতা জয় করে বিস্ময়কর উদ্ভাবন: কলেজছাত্র ওয়াকিমুলের স্মার্ট কারে চড়ে উৎসাহিত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬

প্রতিবন্ধকতা জয় করে বিস্ময়কর উদ্ভাবন: কলেজছাত্র ওয়াকিমুলের স্মার্ট কারে চড়ে উৎসাহিত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে মেধা ও ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মানতে বাধ্য, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ঝিনাইদহের এক অদম্য মেধাবী কলেজছাত্র ওয়াকিমুল ইসলাম। নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে পেছনে ফেলে সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তিনি তৈরি করেছেন একটি আধুনিক ‘স্মার্ট কার’। এই অসামান্য উদ্ভাবনে মুগ্ধ হয়ে আজ সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ওয়াকিমুলকে আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

উদ্ভাবকের বিস্ময়, প্রধানমন্ত্রীর উৎসাহ

শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে ওয়াকিমুলের তৈরি করা বিশেষ সেই স্মার্ট কারটিতে চড়েন এবং এর নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি বেশ কিছুক্ষণ ওয়াকিমুলের সাথে কথা বলেন এবং কীভাবে এই প্রতিকূলতার মধ্যে এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবন সম্ভব হলো, তা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন:

"ওয়াকিমুল আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। শারীরিক সীমাবদ্ধতা যে সৃজনশীলতায় বাধা হতে পারে না, সে আজ তা প্রমাণ করেছে। আমাদের সরকার চায় ওয়াকিমুলের মতো মেধাবী উদ্ভাবকদের হাত ধরে বাংলাদেশ প্রযুক্তিনির্ভর আগামীর দিকে এগিয়ে যাক।"

ওয়াকিমুল ইসলামের তৈরি এই বিশেষ গাড়িটি মূলত শারীরিক প্রতিবন্ধীদের চলাচলের সহজ ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে নকশা করা হয়েছে। গাড়িটির বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

ভয়েস কন্ট্রোল: এটি কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে আংশিক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

সেন্সর প্রযুক্তি: পথে কোনো বাধা থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়িটি সংকেত দেয় এবং থেমে যায়।

স্বল্প খরচ: সাধারণ যানের তুলনায় এর পরিচালনা খরচ অত্যন্ত কম।

সহজ নিয়ন্ত্রণ: বিশেষ স্টিয়ারিং ও গিয়ার সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে, যা শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক।

ওয়াকিমুল ইসলাম জানান, অর্থাভাব এবং শারীরিক সমস্যার কারণে এই পথ সহজ ছিল না। কিন্তু স্বপ্ন ছিল এমন কিছু তৈরি করা যা তার মতো অন্যদের জীবনে পরিবর্তন আনবে। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি উৎসাহ ও গাড়িতে চড়ে তাকে অভিনন্দন জানানো ওয়াকিমুলের কাছে এক স্বপ্নের মতো। পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেন যে, ওয়াকিমুলের এই উদ্ভাবনকে আরও আধুনিকায়ন করতে এবং এর বাণিজ্যিক উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়া তার পড়াশোনা ও গবেষণার জন্য বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সরকারের এই ইতিবাচক পদক্ষেপে দেশের তরুণ উদ্ভাবকদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সিটিজি বার্তা

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬


প্রতিবন্ধকতা জয় করে বিস্ময়কর উদ্ভাবন: কলেজছাত্র ওয়াকিমুলের স্মার্ট কারে চড়ে উৎসাহিত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

featured Image

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে মেধা ও ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মানতে বাধ্য, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ঝিনাইদহের এক অদম্য মেধাবী কলেজছাত্র ওয়াকিমুল ইসলাম। নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে পেছনে ফেলে সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তিনি তৈরি করেছেন একটি আধুনিক ‘স্মার্ট কার’। এই অসামান্য উদ্ভাবনে মুগ্ধ হয়ে আজ সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ওয়াকিমুলকে আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

উদ্ভাবকের বিস্ময়, প্রধানমন্ত্রীর উৎসাহ

শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে ওয়াকিমুলের তৈরি করা বিশেষ সেই স্মার্ট কারটিতে চড়েন এবং এর নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি বেশ কিছুক্ষণ ওয়াকিমুলের সাথে কথা বলেন এবং কীভাবে এই প্রতিকূলতার মধ্যে এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবন সম্ভব হলো, তা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন:

"ওয়াকিমুল আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। শারীরিক সীমাবদ্ধতা যে সৃজনশীলতায় বাধা হতে পারে না, সে আজ তা প্রমাণ করেছে। আমাদের সরকার চায় ওয়াকিমুলের মতো মেধাবী উদ্ভাবকদের হাত ধরে বাংলাদেশ প্রযুক্তিনির্ভর আগামীর দিকে এগিয়ে যাক।"

ওয়াকিমুল ইসলামের তৈরি এই বিশেষ গাড়িটি মূলত শারীরিক প্রতিবন্ধীদের চলাচলের সহজ ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে নকশা করা হয়েছে। গাড়িটির বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

ভয়েস কন্ট্রোল: এটি কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে আংশিক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

সেন্সর প্রযুক্তি: পথে কোনো বাধা থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়িটি সংকেত দেয় এবং থেমে যায়।

স্বল্প খরচ: সাধারণ যানের তুলনায় এর পরিচালনা খরচ অত্যন্ত কম।

সহজ নিয়ন্ত্রণ: বিশেষ স্টিয়ারিং ও গিয়ার সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে, যা শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক।

ওয়াকিমুল ইসলাম জানান, অর্থাভাব এবং শারীরিক সমস্যার কারণে এই পথ সহজ ছিল না। কিন্তু স্বপ্ন ছিল এমন কিছু তৈরি করা যা তার মতো অন্যদের জীবনে পরিবর্তন আনবে। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি উৎসাহ ও গাড়িতে চড়ে তাকে অভিনন্দন জানানো ওয়াকিমুলের কাছে এক স্বপ্নের মতো। পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেন যে, ওয়াকিমুলের এই উদ্ভাবনকে আরও আধুনিকায়ন করতে এবং এর বাণিজ্যিক উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়া তার পড়াশোনা ও গবেষণার জন্য বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সরকারের এই ইতিবাচক পদক্ষেপে দেশের তরুণ উদ্ভাবকদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।


সিটিজি বার্তা

সম্পাদক: নুর আলম

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।