আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বহুল আলোচিত এবং বিতর্কিত সামরিক অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ আপাতত স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। পেন্টাগনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ছিল মূলত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্য বজায় রাখা এবং নির্দিষ্ট কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধ করার জন্য ডিজাইন করা একটি বড় মাপের সামরিক অপারেশন। গত কয়েক মাস ধরেই এই অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে এর গোপনীয়তা এবং সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আগে থেকেই উদ্বেগ ছিল।
আল জাজিরার বিশ্লেষণে এই স্থগিতাদেশের পেছনে প্রধান তিনটি কারণ উঠে এসেছে:
তীব্র কূটনৈতিক চাপ: জাতিসংঘসহ বেশ কিছু শক্তিশালী দেশ এই অভিযানের তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল। তাদের মতে, এই ধরণের সামরিক হস্তক্ষেপ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ধ্বংসাত্মক হবে।
গোয়েন্দা তথ্যের পরিবর্তন: পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক কিছু গোয়েন্দা তথ্যে দেখা গেছে যে অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হওয়া গোষ্ঠীগুলো তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে। ফলে বর্তমান কৌশলে অভিযান চালালে বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকি অনেক বেশি ছিল।
হোয়াইট হাউসের নীতি পরিবর্তন: যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন সরাসরি সংঘাতের চেয়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নির্বাচনের আগে কোনো নতুন যুদ্ধে জড়াতে চাইছে না জো বাইডেন প্রশাসন।
এই খবরটি প্রচার হওয়ার পর রাশিয়ার পক্ষ থেকে একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "যুক্তি ও কাণ্ডজ্ঞান অবশেষে জয়ী হয়েছে।" অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলো এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এটি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
পেন্টাগনের মুখপাত্র এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, "অভিযানটি বাতিল নয়, বরং স্থগিত করা হয়েছে।" পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে ভবিষ্যতে এই প্রজেক্ট আবারও সক্রিয় করা হতে পারে। তবে আপাতত মার্কিন ড্রোন এবং গোয়েন্দা নজরদারি ওই অঞ্চলে অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।
 (800 x 200 px)_20260411_203554_0000.png)
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বহুল আলোচিত এবং বিতর্কিত সামরিক অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ আপাতত স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। পেন্টাগনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ছিল মূলত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্য বজায় রাখা এবং নির্দিষ্ট কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধ করার জন্য ডিজাইন করা একটি বড় মাপের সামরিক অপারেশন। গত কয়েক মাস ধরেই এই অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে এর গোপনীয়তা এবং সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আগে থেকেই উদ্বেগ ছিল।
আল জাজিরার বিশ্লেষণে এই স্থগিতাদেশের পেছনে প্রধান তিনটি কারণ উঠে এসেছে:
তীব্র কূটনৈতিক চাপ: জাতিসংঘসহ বেশ কিছু শক্তিশালী দেশ এই অভিযানের তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল। তাদের মতে, এই ধরণের সামরিক হস্তক্ষেপ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ধ্বংসাত্মক হবে।
গোয়েন্দা তথ্যের পরিবর্তন: পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক কিছু গোয়েন্দা তথ্যে দেখা গেছে যে অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হওয়া গোষ্ঠীগুলো তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে। ফলে বর্তমান কৌশলে অভিযান চালালে বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকি অনেক বেশি ছিল।
হোয়াইট হাউসের নীতি পরিবর্তন: যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন সরাসরি সংঘাতের চেয়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নির্বাচনের আগে কোনো নতুন যুদ্ধে জড়াতে চাইছে না জো বাইডেন প্রশাসন।
এই খবরটি প্রচার হওয়ার পর রাশিয়ার পক্ষ থেকে একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "যুক্তি ও কাণ্ডজ্ঞান অবশেষে জয়ী হয়েছে।" অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলো এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এটি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
পেন্টাগনের মুখপাত্র এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, "অভিযানটি বাতিল নয়, বরং স্থগিত করা হয়েছে।" পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে ভবিষ্যতে এই প্রজেক্ট আবারও সক্রিয় করা হতে পারে। তবে আপাতত মার্কিন ড্রোন এবং গোয়েন্দা নজরদারি ওই অঞ্চলে অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।
 (800 x 200 px)_20260411_203554_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন