মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
সিটিজি বার্তা

ইউক্রেন সংঘাত সমাপ্তির পথে: বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ শেষে পুতিনের ঘোষণা।


PRINCE DEY
PRINCE DEY
প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬

ইউক্রেন সংঘাত সমাপ্তির পথে: বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ শেষে পুতিনের ঘোষণা।

৯ মে ২০২৬, মস্কোর রেড স্কয়ারে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে বিজয়ের ৮১তম বার্ষিকী উদযাপন (বিজয় দিবস) শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক কিছু মন্তব্য করেছেন।

তার বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:

পুতিন সরাসরি বলেছেন যে, ইউক্রেন সংঘাত এখন সমাপ্তির দিকে এগোচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, যদিও এটি একটি দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া, তবে বর্তমান পরিস্থিতি নির্দেশ করছে যে এটি শেষের পথে। তিনি বলেন, "আমি মনে করি বিষয়টি শেষ হতে চলেছে, তবে এটি এখনও একটি গুরুতর বিষয়।"

পুতিন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। তবে তিনি কিছু নির্দিষ্ট শর্ত দিয়েছেন  জেলেনস্কির সাথে বৈঠক হতে পারে কোনো নিরপেক্ষ তৃতীয় দেশে (মস্কোতে নয়)। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই বৈঠকটি হবে কেবল শান্তি চুক্তির চূড়ান্ত শর্তাবলি স্বাক্ষরের জন্য, আলোচনার শুরু করার জন্য নয়। সব শর্ত আগে থেকেই চূড়ান্ত হতে হবে।


পুতিন তার বক্তব্যে পশ্চিমাদের কড়া সমালোচনা করে বলেন:

  • তারা রাশিয়াকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, কিন্তু তা সফল হয়নি।

  • পশ্চিমা দেশগুলো এখন এই সংঘাতে "আটকে পড়েছে" (stuck in a rut) এবং বের হওয়ার পথ খুঁজে পাচ্ছে না।

  • বিজয় দিবসের এই কুচকাওয়াজে ইউক্রেনে যুদ্ধরত সৈন্যদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তারা পুরো ন্যাটোর (NATO) সমর্থিত একটি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

পুতিনের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় তিন দিনের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে। যদিও উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে ছোটখাটো নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ তুলছে, তবুও এই যুদ্ধবিরতি একটি বড় রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে।

এবারের বিজয় দিবসটি গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত এবং সীমিত ছিল। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে রেড স্কয়ারে কোনো ভারী ট্যাংক বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়নি, কেবল পদাতিক বাহিনী এবং বিমান বাহিনীর প্রদর্শনী ছিল। পুতিন এই সীমিত আয়োজনের মাঝেই তার "বিজয় হবেই" এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পুতিনের এই বক্তব্যকে বিশ্লেষকরা একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন যে, দীর্ঘ পাঁচ বছর পর রাশিয়া এখন একটি রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার কথা ভাবছে, যদিও তারা তাদের প্রধান লক্ষ্যগুলো অর্জনে অনড়।

আপনার মতামত লিখুন

সিটিজি বার্তা

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬


ইউক্রেন সংঘাত সমাপ্তির পথে: বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ শেষে পুতিনের ঘোষণা।

প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬

featured Image

৯ মে ২০২৬, মস্কোর রেড স্কয়ারে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে বিজয়ের ৮১তম বার্ষিকী উদযাপন (বিজয় দিবস) শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক কিছু মন্তব্য করেছেন।

তার বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:

পুতিন সরাসরি বলেছেন যে, ইউক্রেন সংঘাত এখন সমাপ্তির দিকে এগোচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, যদিও এটি একটি দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া, তবে বর্তমান পরিস্থিতি নির্দেশ করছে যে এটি শেষের পথে। তিনি বলেন, "আমি মনে করি বিষয়টি শেষ হতে চলেছে, তবে এটি এখনও একটি গুরুতর বিষয়।"

পুতিন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। তবে তিনি কিছু নির্দিষ্ট শর্ত দিয়েছেন  জেলেনস্কির সাথে বৈঠক হতে পারে কোনো নিরপেক্ষ তৃতীয় দেশে (মস্কোতে নয়)। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই বৈঠকটি হবে কেবল শান্তি চুক্তির চূড়ান্ত শর্তাবলি স্বাক্ষরের জন্য, আলোচনার শুরু করার জন্য নয়। সব শর্ত আগে থেকেই চূড়ান্ত হতে হবে।


পুতিন তার বক্তব্যে পশ্চিমাদের কড়া সমালোচনা করে বলেন:

  • তারা রাশিয়াকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, কিন্তু তা সফল হয়নি।

  • পশ্চিমা দেশগুলো এখন এই সংঘাতে "আটকে পড়েছে" (stuck in a rut) এবং বের হওয়ার পথ খুঁজে পাচ্ছে না।

  • বিজয় দিবসের এই কুচকাওয়াজে ইউক্রেনে যুদ্ধরত সৈন্যদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তারা পুরো ন্যাটোর (NATO) সমর্থিত একটি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

পুতিনের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় তিন দিনের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে। যদিও উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে ছোটখাটো নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ তুলছে, তবুও এই যুদ্ধবিরতি একটি বড় রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে।

এবারের বিজয় দিবসটি গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত এবং সীমিত ছিল। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে রেড স্কয়ারে কোনো ভারী ট্যাংক বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়নি, কেবল পদাতিক বাহিনী এবং বিমান বাহিনীর প্রদর্শনী ছিল। পুতিন এই সীমিত আয়োজনের মাঝেই তার "বিজয় হবেই" এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পুতিনের এই বক্তব্যকে বিশ্লেষকরা একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন যে, দীর্ঘ পাঁচ বছর পর রাশিয়া এখন একটি রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার কথা ভাবছে, যদিও তারা তাদের প্রধান লক্ষ্যগুলো অর্জনে অনড়।


সিটিজি বার্তা

সম্পাদক: নুর আলম

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।