৫ মাস বয়সী শিশু তাকরিমের এই করুণ মৃত্যুর ঘটনাটি কেবল একটি পরিবারের শোক নয়, এটি আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে আবারও আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি নিচে তুলে ধরা হলো:
তাকরিমের অসুস্থতা শুরু হয়েছিল জ্বরের মাধ্যমে। ভোলার স্থানীয় চিকিৎসকেরা প্রথমে এটিকে সাধারণ ‘অ্যালার্জি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। কিন্তু আসলে শিশুটি হাম (Measles) এবং হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিল। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় না হওয়ায় এবং ভুল চিকিৎসার ফলে তার শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে যায়। যখন ভোলার চিকিৎসকেরা হাল ছেড়ে দেন, তখন তাকরিমকে নিয়ে আসা হয় রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে দুদিন ভর্তির পর চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটির অবস্থা এতটাই সংকটাপন্ন যে তার জন্য পিআইসিইউ (PICU - Pediatric Intensive Care Unit) প্রয়োজন। কিন্তু সোহরাওয়ার্দীতে কোনো সিট খালি ছিল না। এরপর অসহায় বাবা-মা একের পর এক সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করেও কোনো পিআইসিইউ বেড খালি পাননি। সরকারি হাসপাতালে জায়গা না পেয়ে বাধ্য হয়েই তারা তাকরিমকে ঢাকার একটি নামী বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউর খরচ ছিল আকাশচুম্বী। তাকরিমের বাবা পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। একদিনে যে বিশাল অংকের বিল আসে, তা মেটানোর সামর্থ্য তার ছিল না। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টিভিতে এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে তাকরিমের বাবা-মা বলেছিলেন— "যদি কেউ আমাদের সন্তানের চিকিৎসার খরচ চালায়, তবে আমরা চাইলে আমাদের সন্তানকে তাকে দিয়ে দেব, শুধু চাই ও বেঁচে থাকুক। এই মানবিক আবেদনটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন মন্ত্রী ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৪ লাখ টাকার বেশি হাসপাতালের বিল পরিশোধ করেন এবং পরিবারটিকে নগদ অর্থ সহায়তাও প্রদান করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। তাকরিম হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া, রক্তে সংক্রমণ এবং হার্টের জটিলতায় ভুগে গত ৭ মে (আজ) সকাল ১০টার দিকে মারা যায়।বিকেল আড়াইটার দিকে এক বুক হাহাকার নিয়ে তাকরিমের নিথর দেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে ভোলার পথে রওনা হন তার বাবা-মা। যে সন্তানকে সুস্থ করতে তারা জেলা শহর থেকে রাজধানীতে এসেছিলেন, তাকেই নিয়ে ফিরতে হলো কাফনের কাপড়ে জড়িয়ে। বর্তমানে বাংলাদেশে (বিশেষ করে ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও দক্ষিণাঞ্চলে) হামের প্রকোপ বেড়েছে। তাকরিমের ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়। শুরুতে ভুল রোগ নির্ণয় একজন শিশুর জীবন কেড়ে নিতে পারে। সরকারি হাসপাতালে শিশু নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র বা পিআইসিইউ-র তীব্র সংকট একটি জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া এখনো কতটা কঠিন ও ব্যয়সাপেক্ষ। এই ছোট্ট তাকরিমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি এবং শোকাতুর পরিবারের প্রতি রইল বিনম্র সমবেদনা।
 (800 x 200 px)_20260411_203554_0000.png)
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬
৫ মাস বয়সী শিশু তাকরিমের এই করুণ মৃত্যুর ঘটনাটি কেবল একটি পরিবারের শোক নয়, এটি আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে আবারও আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি নিচে তুলে ধরা হলো:
তাকরিমের অসুস্থতা শুরু হয়েছিল জ্বরের মাধ্যমে। ভোলার স্থানীয় চিকিৎসকেরা প্রথমে এটিকে সাধারণ ‘অ্যালার্জি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। কিন্তু আসলে শিশুটি হাম (Measles) এবং হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিল। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় না হওয়ায় এবং ভুল চিকিৎসার ফলে তার শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে যায়। যখন ভোলার চিকিৎসকেরা হাল ছেড়ে দেন, তখন তাকরিমকে নিয়ে আসা হয় রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে দুদিন ভর্তির পর চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটির অবস্থা এতটাই সংকটাপন্ন যে তার জন্য পিআইসিইউ (PICU - Pediatric Intensive Care Unit) প্রয়োজন। কিন্তু সোহরাওয়ার্দীতে কোনো সিট খালি ছিল না। এরপর অসহায় বাবা-মা একের পর এক সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করেও কোনো পিআইসিইউ বেড খালি পাননি। সরকারি হাসপাতালে জায়গা না পেয়ে বাধ্য হয়েই তারা তাকরিমকে ঢাকার একটি নামী বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউর খরচ ছিল আকাশচুম্বী। তাকরিমের বাবা পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। একদিনে যে বিশাল অংকের বিল আসে, তা মেটানোর সামর্থ্য তার ছিল না। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টিভিতে এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে তাকরিমের বাবা-মা বলেছিলেন— "যদি কেউ আমাদের সন্তানের চিকিৎসার খরচ চালায়, তবে আমরা চাইলে আমাদের সন্তানকে তাকে দিয়ে দেব, শুধু চাই ও বেঁচে থাকুক। এই মানবিক আবেদনটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন মন্ত্রী ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৪ লাখ টাকার বেশি হাসপাতালের বিল পরিশোধ করেন এবং পরিবারটিকে নগদ অর্থ সহায়তাও প্রদান করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। তাকরিম হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া, রক্তে সংক্রমণ এবং হার্টের জটিলতায় ভুগে গত ৭ মে (আজ) সকাল ১০টার দিকে মারা যায়।বিকেল আড়াইটার দিকে এক বুক হাহাকার নিয়ে তাকরিমের নিথর দেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে ভোলার পথে রওনা হন তার বাবা-মা। যে সন্তানকে সুস্থ করতে তারা জেলা শহর থেকে রাজধানীতে এসেছিলেন, তাকেই নিয়ে ফিরতে হলো কাফনের কাপড়ে জড়িয়ে। বর্তমানে বাংলাদেশে (বিশেষ করে ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও দক্ষিণাঞ্চলে) হামের প্রকোপ বেড়েছে। তাকরিমের ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়। শুরুতে ভুল রোগ নির্ণয় একজন শিশুর জীবন কেড়ে নিতে পারে। সরকারি হাসপাতালে শিশু নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র বা পিআইসিইউ-র তীব্র সংকট একটি জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া এখনো কতটা কঠিন ও ব্যয়সাপেক্ষ। এই ছোট্ট তাকরিমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি এবং শোকাতুর পরিবারের প্রতি রইল বিনম্র সমবেদনা।
 (800 x 200 px)_20260411_203554_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন