পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত হোটেল ভাড়ার সীমা (সিলিং) তুলে দিয়ে প্রকৃত ব্যয়ের (Actual Cost) ভিত্তিতে খরচ নির্ধারণের একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় সরাসরি এতে সায় দেয়নি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করছে বর্তমান বরাদ্দ আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে অপ্রতুল। তাদের দাবির মূল পয়েন্টগুলো হলো ভাড়ার সিলিং বাতিল। বর্তমানে মন্ত্রীরা প্রতিদিন হোটেল ভাড়া বাবদ পান সর্বোচ্চ ৪২০ ডলার এবং প্রতিমন্ত্রীরা পান ৩১২ ডলার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব ছিল এই নির্দিষ্ট সীমা তুলে দেওয়া।প্র ব্যয় (Actual Cost): উন্নত দেশগুলোর বড় শহরে ৪২০ ডলারে মানসম্মত এবং নিরাপদ আবাসন খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই তারা প্রকৃত বিল অনুযায়ী অর্থ পরিশোধের দাবি জানায়।প্রটোকল ও মর্যাদা, মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রটোকল অনুযায়ী নির্দিষ্ট মানের হোটেলে থাকতে হয়, যা বর্তমান বরাদ্দ দিয়ে সম্ভব হচ্ছে না বলে তাদের যুক্তি। অর্থ মন্ত্রণালয় মূলত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও ডলার সাশ্রয় নীতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তাদের আপত্তির প্রধান ভিত্তিগুলো হলো। সরকার বর্তমানে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ রাখা, গাড়ি কেনা স্থগিত রাখা এবং ভ্রমণ ব্যয় ৩০% কমানোর মতো কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন নীতিতে রয়েছে। এই সময়ে মন্ত্রীদের আবাসন ভাতা বাড়ানো সাধারণ মানুষের কাছে নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে। ডলার রেট ও মুদ্রাস্ফীতি: বর্তমানে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। ফলে ৪২০ ডলার মানেই প্রায় ৫১,২৪০ টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতে, এটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে যথেষ্ট। আমদানি চাপ, মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি ও জরুরি পণ্য আমদানিতে সরকারকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই বিলাসিতা বা অতিরিক্ত ব্যয়ের সুযোগ এই মুহূর্তে নেই। এই আলোচনার মধ্যেই ক্যাবিনেট ডিভিশন থেকে গত ২০ এপ্রিল ২০২৬-এ নতুন একটি প্রটোকল জারি করা হয়েছে, যা বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে।
ব্যক্তিগত সফর: মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীদের ব্যক্তিগত সফরে সরকারি কোনো আর্থিক সুবিধা নেওয়া যাবে না। যদি তারা সরকারি পরিবহন বা আবাসন ব্যবহার করেন, তবে প্রচলিত নিয়মে তার মূল্য বা ফি পরিশোধ করতে হবে।
অফিসিয়াল বনাম ব্যক্তিগত: সফরের বিবরণীতে সফরটি 'সরকারি' নাকি 'ব্যক্তিগত' তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
প্রটোকল নিয়ন্ত্রণ: বিমানবন্দরে বা জেলা সফরে কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার নিয়মও শিথিল করা হয়েছে অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক ও খরচ কমাতে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে বিশ্ববাজারে ডলারের দাম বাড়ায় ৪২০ ডলারে ভালো হোটেল পাওয়া চ্যালেঞ্জিং হচ্ছে—এটি বাস্তব। কিন্তু অন্য দিকে দেশের রিজার্ভের ওপর চাপ এবং সাধারণ জনগণের ওপর মুদ্রাস্ফীতির বোঝা থাকায় সরকার এই মুহূর্তে মন্ত্রীদের খরচ বাড়িয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
বর্তমানে প্রস্তাবটি ঝুলে আছে। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যদি শীর্ষ পর্যায় থেকে (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) বিশেষ কোনো সিদ্ধান্ত আসে, তবেই এটি কার্যকর হতে পারে। অন্যথায় বর্তমান হারেই মন্ত্রীদের বিদেশ সফর চালিয়ে যেতে হবে।
 (800 x 200 px)_20260411_203554_0000.png)
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত হোটেল ভাড়ার সীমা (সিলিং) তুলে দিয়ে প্রকৃত ব্যয়ের (Actual Cost) ভিত্তিতে খরচ নির্ধারণের একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় সরাসরি এতে সায় দেয়নি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করছে বর্তমান বরাদ্দ আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে অপ্রতুল। তাদের দাবির মূল পয়েন্টগুলো হলো ভাড়ার সিলিং বাতিল। বর্তমানে মন্ত্রীরা প্রতিদিন হোটেল ভাড়া বাবদ পান সর্বোচ্চ ৪২০ ডলার এবং প্রতিমন্ত্রীরা পান ৩১২ ডলার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব ছিল এই নির্দিষ্ট সীমা তুলে দেওয়া।প্র ব্যয় (Actual Cost): উন্নত দেশগুলোর বড় শহরে ৪২০ ডলারে মানসম্মত এবং নিরাপদ আবাসন খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই তারা প্রকৃত বিল অনুযায়ী অর্থ পরিশোধের দাবি জানায়।প্রটোকল ও মর্যাদা, মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রটোকল অনুযায়ী নির্দিষ্ট মানের হোটেলে থাকতে হয়, যা বর্তমান বরাদ্দ দিয়ে সম্ভব হচ্ছে না বলে তাদের যুক্তি। অর্থ মন্ত্রণালয় মূলত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও ডলার সাশ্রয় নীতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তাদের আপত্তির প্রধান ভিত্তিগুলো হলো। সরকার বর্তমানে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ রাখা, গাড়ি কেনা স্থগিত রাখা এবং ভ্রমণ ব্যয় ৩০% কমানোর মতো কঠোর কৃচ্ছ্রসাধন নীতিতে রয়েছে। এই সময়ে মন্ত্রীদের আবাসন ভাতা বাড়ানো সাধারণ মানুষের কাছে নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে। ডলার রেট ও মুদ্রাস্ফীতি: বর্তমানে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। ফলে ৪২০ ডলার মানেই প্রায় ৫১,২৪০ টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতে, এটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে যথেষ্ট। আমদানি চাপ, মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি ও জরুরি পণ্য আমদানিতে সরকারকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই বিলাসিতা বা অতিরিক্ত ব্যয়ের সুযোগ এই মুহূর্তে নেই। এই আলোচনার মধ্যেই ক্যাবিনেট ডিভিশন থেকে গত ২০ এপ্রিল ২০২৬-এ নতুন একটি প্রটোকল জারি করা হয়েছে, যা বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে।
ব্যক্তিগত সফর: মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীদের ব্যক্তিগত সফরে সরকারি কোনো আর্থিক সুবিধা নেওয়া যাবে না। যদি তারা সরকারি পরিবহন বা আবাসন ব্যবহার করেন, তবে প্রচলিত নিয়মে তার মূল্য বা ফি পরিশোধ করতে হবে।
অফিসিয়াল বনাম ব্যক্তিগত: সফরের বিবরণীতে সফরটি 'সরকারি' নাকি 'ব্যক্তিগত' তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
প্রটোকল নিয়ন্ত্রণ: বিমানবন্দরে বা জেলা সফরে কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার নিয়মও শিথিল করা হয়েছে অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক ও খরচ কমাতে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে বিশ্ববাজারে ডলারের দাম বাড়ায় ৪২০ ডলারে ভালো হোটেল পাওয়া চ্যালেঞ্জিং হচ্ছে—এটি বাস্তব। কিন্তু অন্য দিকে দেশের রিজার্ভের ওপর চাপ এবং সাধারণ জনগণের ওপর মুদ্রাস্ফীতির বোঝা থাকায় সরকার এই মুহূর্তে মন্ত্রীদের খরচ বাড়িয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
বর্তমানে প্রস্তাবটি ঝুলে আছে। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যদি শীর্ষ পর্যায় থেকে (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) বিশেষ কোনো সিদ্ধান্ত আসে, তবেই এটি কার্যকর হতে পারে। অন্যথায় বর্তমান হারেই মন্ত্রীদের বিদেশ সফর চালিয়ে যেতে হবে।
 (800 x 200 px)_20260411_203554_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন