মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
সিটিজি বার্তা

জমি বিরোধে রণক্ষেত্র ছাতকের জাউয়াবাজার, সিলেটে চিকিৎসাধীন এমপি কামরুল।


প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬

জমি বিরোধে রণক্ষেত্র ছাতকের জাউয়াবাজার, সিলেটে চিকিৎসাধীন এমপি কামরুল।

ছাতক (সুনামগঞ্জ): সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজার এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাউয়াবাজার সংলগ্ন একটি পৈতৃক ভূমির মালিকানা ও দখল নিয়ে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের লোকজনের সঙ্গে স্থানীয় হাসনাত পক্ষ ও তাদের সমর্থকদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। শনিবার (৯ মে) সকালে ওই বিরোধপূর্ণ জমিতে কাজ করা বা দখল কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাউয়াবাজার ও এর আশপাশ এলাকায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের কয়েকশ সমর্থক এতে যোগ দেয়। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে চলা এই সংঘর্ষে জাউয়াবাজার-সিলেট সড়কের যান চলাচল সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয় এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আহত অন্যান্যদের ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কৈতক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। খবর পেয়ে ছাতক থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে জাউয়াবাজার এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, "জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। এখন পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোনো পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে ঘটনার তদন্ত চলছে।স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এলাকার শান্তি বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সিটিজি বার্তা

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬


জমি বিরোধে রণক্ষেত্র ছাতকের জাউয়াবাজার, সিলেটে চিকিৎসাধীন এমপি কামরুল।

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

featured Image

ছাতক (সুনামগঞ্জ): সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজার এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাউয়াবাজার সংলগ্ন একটি পৈতৃক ভূমির মালিকানা ও দখল নিয়ে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের লোকজনের সঙ্গে স্থানীয় হাসনাত পক্ষ ও তাদের সমর্থকদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। শনিবার (৯ মে) সকালে ওই বিরোধপূর্ণ জমিতে কাজ করা বা দখল কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাউয়াবাজার ও এর আশপাশ এলাকায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের কয়েকশ সমর্থক এতে যোগ দেয়। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে চলা এই সংঘর্ষে জাউয়াবাজার-সিলেট সড়কের যান চলাচল সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয় এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আহত অন্যান্যদের ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কৈতক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। খবর পেয়ে ছাতক থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে জাউয়াবাজার এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, "জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। এখন পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোনো পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে ঘটনার তদন্ত চলছে।স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এলাকার শান্তি বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন।


সিটিজি বার্তা

সম্পাদক: নুর আলম

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।